দারিয়াপুরে সেলিম আল দীন নাট্যোৎসব: সংস্কৃতির আলোয় শেষ হলো চার দিনের আয়োজন

 দারিয়াপুরে সেলিম আল দীন নাট্যোৎসব: সংস্কৃতির আলোয় শেষ হলো চার দিনের আয়োজন


মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা


গাইবান্ধার দারিয়াপুরে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘সেলিম আল দীন নাট্যোৎসব-২০২৬’। নাট্যচর্চা, লোকজ সংস্কৃতি ও দেশীয় ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গকে ধারণ করে আয়োজিত এ উৎসব শুধু বিনোদনের আয়োজন ছিল না; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা নাট্যধারা ও লোকসংস্কৃতির শিকড়কে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।


‘তোমার সম্মুখে অনন্ত মুক্তির অন্বেষণ ছায়াপথ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৯ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সারথি থিয়েটার, দারিয়াপুরের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। পালানাট্য কর্মশালা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বাউল গান, নৃত্য ও পল্লীনাট্যের মতো আয়োজন উৎসবকে দিয়েছে বৈচিত্র্যময় মাত্রা।



শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় বটতলায় নৃত্য ও ‘পল্লীনাট্য (কালিন্দীর গান)’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের আয়োজন। শেষ দিনের অনুষ্ঠানেও দর্শক-সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।


উৎসবের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল গুণী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান। যাত্রাশিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রিয়াজুল হককে ‘পুণচন্দ্র বর্মন যাত্রা শিল্পী পদক’ প্রদান করা হয়। এ সম্মাননা কেবল একজন শিল্পীর অর্জন নয়, বরং গ্রামীণ ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত শিল্পীদের অবদানের প্রতি সম্মান জানানোরও একটি দৃষ্টান্ত।


এর আগে ১৮ আগস্ট উত্তম বাড়িতে সেলিম আল দীনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বৃক্ষরোপণ, ঘোড়াঘাট গড়জের ভাসান উৎসব এবং সেলিম আল দীনের নাটকের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।



সেলিম আল দীন বাংলা নাট্যজগতে লোকজ জীবন, মাটি ও মানুষের গল্পকে যে শিল্পভাষা দিয়েছেন, সেই চেতনাকে স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। দারিয়াপুরে এমন উৎসবের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চার প্রতি আগ্রহ আরও গভীর হবে—এটাই প্রত্যাশা।


নাট্য, নৃত্য, গান, লোকজ ঐতিহ্য এবং শিল্পীদের সম্মাননার মধ্য দিয়ে চার দিনের এই আয়োজন শেষ হলেও এর সাংস্কৃতিক অনুরণন দারিয়াপুরের মানুষের মনে আরও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই আয়োজক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের।

Post a Comment

Previous Post Next Post

News