সাংবাদিক জাতির বিবেক, কলম হোক সত্যের অস্ত্র
আলম শরীফ সরকার | নিজস্ব প্রতিবেদক
একটি রাষ্ট্রের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক শুধু সংবাদ পরিবেশন করেন না; তিনি সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরেন। তাই সাংবাদিককে একটি জাতির বিবেক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জাতির বিবেক যদি সাংবাদিক হন, আর সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যদি হয় কলম, তাহলে সেই কলম থামিয়ে দেওয়া মানে শুধু একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা নয়—এটি সত্য প্রকাশের পথকে সংকুচিত করা।সাংবাদিকের ওপর আঘাত মানে বিবেকের ওপর আঘাত
একজন সাংবাদিক যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন, তখন তিনি সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তার প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যার বিষয়ে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায়।
কিন্তু সত্য প্রকাশের কারণে যদি কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে এর প্রভাব শুধু তার ওপরই পড়ে না। এতে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়। ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে সত্য জানলেও অনেকে তা প্রকাশ করতে সাহস করবেন না।
কলমকে থামানো যায়, সত্যকে নয়।সাংবাদিকের হাতে থাকা কলম কোনো ধ্বংসের অস্ত্র নয়। এটি মানুষের কথা বলার, সত্য তুলে ধরার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যম।
কলম প্রশ্ন করতে পারে।কলম মানুষের কষ্টের কথা বলতে পারে।কলম অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে পারে।
তাই সাংবাদিকের কলমকে ভয় না পেয়ে তার প্রশ্নের জবাব দেওয়াই একটি সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য।বিবেকহীন জাতি কোথায় যাবে?
একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার ন্যায়বোধ, মানবিকতা, জবাবদিহি এবং সত্য বলার সাহসের মধ্যে নিহিত।
সাংবাদিকরা যদি নিরাপদে কাজ করতে না পারেন, যদি সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন, যদি প্রশ্ন করার কারণে হুমকি পান—তাহলে সমাজে ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতি তৈরি হয়।
আর যখন জাতির বিবেক নীরব হয়ে যায়, তখন অন্যায়কে অন্যায় বলার মানুষও কমে যায়।সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি
সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিকদের স্বার্থ নয়; এটি সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রক্ষারও অংশ।
কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার সমাধান হতে হবে আইন ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। হামলা, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না।শেষ কথা
“জাতির বিবেক যদি সাংবাদিক আর অস্ত্র যদি কলম হয়। তাদের ওপর আঘাত মানেই জাতির বিবেককে হত্যা করা। বিবেকহীন জাতির ধ্বংস অনিবার্য।”
সাংবাদিকের কণ্ঠ নিরাপদ থাকুক, কলম স্বাধীন থাকুক, সত্য প্রকাশের পথ উন্মুক্ত থাকুক। কারণ একটি সচেতন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।
সত্য প্রকাশ হোক নির্ভয়ে—কলম হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী শান্তিপূর্ণ অস্ত্র।আলম শরীফ সরকার

Post a Comment