দুর্নীতি অভিযোগে ডিমলা খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী)প্রতিনিধি : নীলফামারী জেলা ডিমলা উপজেলা খাদ্য গুদামে দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশের পর আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পেয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্ত টিম। এর জেরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ ও খাদ্য কর্মকর্তা নবাব আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। মামুনুর রশীদকে চট্টগ্রাম বিভাগে সন্দিপে এবং নবাব আলীকে বরিশাল বিভাগে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছে বলে খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
গত (১ সেপ্টেম্বর) বুধবার সন্ধ্যায় খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের তদন্ত টিম। আকস্মিকভাবে ডিমলা খাদ্য গুদামে আসেন। এ সময় গুদাম থেকে একটি ট্রাকে চাল তোলার দৃশ্য নজরে আসে তদন্ত দলের। পরে চালগুলো আটকে দিয়ে গুদামেই জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মজুত, নথিপত্র, ধান-চাল সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ড যাচাই করা হয়।
গুদাম সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকে থাকা চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডিলার রতন কুমারের জন্য বরাদ্দ ছিল বলে দাবি করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চাল সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৩১ আগস্ট। সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও চাল ছাড়ের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে গুদামের ৩৭ জন ডিলারের অভিযোগ, গত আগস্টে বড় বস্তায় চাল নেওয়ার জন্য ডিলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে উৎকর্ষ আদায় করা হয়েছে। এছাড়া কম ওজনের চাল, চিকন চাল বাইরে বিক্রি করে নিম্নমানের চাল ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে এছাড়া মাস্টার রোলে কর্মচারী ছাটাই ও নিয়োগ বাণিজ্য রয়েছে সরকারি বস্তা নিয়ে অনিয়ম হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
শুধু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নয়, বোরো ধান সংগ্রহেও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত দল। অভিযোগ রয়েছে,খাদ্য গুদামের শ্রমিক বলেন একটি রাইস মিল থেকে বিপুল পরিমাণ ধান সংগ্রহ করে পরে তা সরকারি গুদামে উত্তোলন দেখানো হয়েছে আমরা লেবার কস্ট থেকে বঞ্চিত হলাম।
খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ফজলে রাব্বি হায়দার বলেন, ডিমলা খাদ্য গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি মহাপরিচালককে জানিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। তাঁর নির্দেশে গত (৩ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার ওই দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় খাদ্য গুদামজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে সরকারি খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

Post a Comment